• বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৩২ পূর্বাহ্ন

নোয়াখালীতে তেল সংগ্রহে পেশাজিবীদের ভোগান্তি

Reporter Name / ৬ Time View
Update : বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬

নোয়াখালী প্রতিনিধি:
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় রয়েছে আয়েশা ও হোসেন ফিলিং স্টেশন। প্রতিটি পাম্প থেকে সপ্তাহে ১দিন তেল সরবরাহ করা হয়। আর এজন্য মোটরসাইকেল নিয়ে ভোর থেকে সড়কের পাশদিয়ে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত সিরিয়াল দিতে শুরু করে জ্বালানি প্রত্যাশীরা।

বুধবার (০৮ এপ্রিল) সরেজমিনে দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, থানা পুলিশ ও র‍্যাবের উপস্থিতিতে সুশৃঙ্খলভাবেই দেয়া হচ্ছে তেল।

তবে, দীর্ঘ সারিতে উঠতি বয়সী তরুনদের সংখ্যাই বেশি। এসময় লাইনে থাকা অবস্থায় ট্যাংকি থেকে বোতলে তেল নামানোর দৃশ্যও চোখে পড়ে প্রতিবেদকের। পরবর্তীতে ঐ বাইকারকে লাইন থেকে বের করে দেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

সারিবদ্ধ ভাবে দাঁড়িয়ে থাকা পেশাজীবি মোটরসাইকেল চালকদের অভিযোগ, উঠতি বয়সী অনেকে অপ্রয়োজনে ভীড় বাড়াচ্ছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন চিকিৎসক, ওষুধ কোম্পানির পরিবেশক, কুরিয়ার ডেলিভারি, বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদকর্মী, উকিল ও ব্যবসায়ীদের মত পেশাজীবি গুরুত্বপূর্ণ পেশার মানুষেরা।

এসময় কথা হলে সোনাইমুড়ী স্টেটফাস্ট কুরিয়ারের ডেলিভারিম্যান সোহাগ জানান, সকাল ১২ টার সময় সিরিয়ালে দাঁড়িয়েছেন। এখনো তার সামনে প্রায় দেড়শো গাড়ি রয়েছে। যাদের মধ্যে অধিকাংশই টিনেজার। অক্ষেপের সাথে বলেন “যারা বাপের হোটেলে খায় তারা অপ্রয়োজনে সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে পেশাজীবি মানুষের কষ্ট বাড়াচ্ছে। এদের অনেকে তেল নিয়ে বাইরে বিক্রি করে।”

সিরিয়ালে থাকা পঞ্চাশোর্ধ মোঃ আব্দুল  করিম দুপুর ৩ টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। জানান, তিনি ব্র্যাকের সোনাইমুড়ী শাখায় কর্মরত আছেন। গত ১০ দিন থেকে তিনি কখনো পায়ে হেটে কখনো অটোরিকশা চড়ে ফিল্ড পর্যায় কাজ করেছেন। অভিযোগ করে বলেন, যারা নন সার্ভিস তাদের জন্য সার্ভিস ম্যানদের ভোগান্তি হচ্ছে। তিনি পেশাদার শ্রমজীবীদের চিন্হিত করে দ্রুত তেল দেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানান।

সূর্য ডুবছে, মাইকে মাইকে মাগরিবের আজান দিচ্ছে এসময় কথা হয় পশু চিকিৎসক মোশাররফ ইসলামের সাথে। তিনি জানান, পশুদের চিকিৎসা দিতে গ্রামের প্রত্যন্ত এলাকা গুলোতে যেতে হয়। সেখানে মোটরসাইকেল ছাড়া যাওয়া কষ্টকর হয়ে যায়। তবে তেলের জন্য সিরিয়াল দিতে গিয়ে দেখা যায় উঠতি বয়সী বাইক চালকেরাই বেশি। তাদের জন্য লাইন দীর্ঘ হয়। এদের অনেকে একবার তেল নিয়ে আবারো ট্যাংকি খালি করে লাইনে দাঁড়ায়। এসব সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে পেশাজীবি চালকদের শনাক্তে তাদের প্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র দেখে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তেল দেওয়ার অনুরোধ জানান।

মেসার্স হোসেন এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মোঃ হোসেন জানান, ১১ দিন পরে তারা সাড়ে ৪ হাজার লিটার তেল পেয়েছেন। দুপুর থেকে তেল দেওয়া শুরু হয়েছে। প্রতিটি মোটরসাইকেলে ৫০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে। পেশাজীবিদের সনাক্ত করে তেল দেওয়ার জন্য তাদের কোন ব্যবস্থা নেই। যেভাবে সিরিয়ালে আসছে সেভাবেই তেল দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

চলমান জ্বালানি সংকটে পেশাজীবীদের ভোগান্তি কমাতে পরিচয় পত্র যাচাই করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তেল দেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন সচেতন মহল।

Facebook Comments Box


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  
bdit.com.bd