• রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ০৪:৪৭ অপরাহ্ন

সোনাইমুড়ীতে মসজিদের জমিতে হানা মাটিখেকোদের

Reporter Name / ১১ Time View
Update : শুক্রবার, ২০ মার্চ, ২০২৬

নোয়াখালী প্রতিনিধি:

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে রাতের আঁধারে মসজিদের জমি থেকে স্কেভেটর দিয়ে মাটি কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া পরিবেশ বিধ্বংসী এই কাজে ঘুষের বিনিময়ে সোনাইমুড়ী থানা পুলিশ সহায়তা করছে বলেও অভিযোগও রয়েছে। ঘুষ নিয়ে পুলিশ এই কাজে সহায়তা করছে মর্মে জামায়াত নেতার একটি ভিডিও ছড়িয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

জানা যায়, গত ২ দিন থেকে উপজেলার নাটেশ্বর এলাকার মিউনহাজী শাহী জামে মসজিদ ও মাদ্রাসার জন্য দানকৃত জমি থেকে মাটি কেটে বিক্রি করছে অসাধু চক্র। রাতের আঁধারে কয়েক ফুট গভীর করে স্কেভেটর মেশিন দিয়ে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে চক্রটি। এই ঘটনায় মসজিদ কমিটির দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা জরুরি সেবা ৯৯৯ নাম্বারে ফোন দিলে ঘটনাস্থলে পুলিশ আসে। পরবর্তীতে তারা কোন পদক্ষেপ না নিয়ে মাটি খেকো চক্রের সদস্যদের থেকে ঘুষ নিয়ে চলে যায় পুলিশ।

এবিষয়ে মিউনহাজী শাহী জামে মসজিদের সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাখায়েত উল্লাহ জানান, গত দুই রাত থেকে মসজিদে জমির মাটি কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এই জমির দাতা ছিলেন মৃত হাজী ইদরিস মিয়া। তিনি মৃত্যুর পূর্বে জমিটি মিউনহাজী শাহী জামে মসজিদের জন্য দান করে যান। বর্তমানে তার নাতি তাজুল ইসলাম জমি থেকে মাটি কেটে বিক্রি করছেন রাতের আঁধারে।

মসজিদের সহ-সভাপতি ও নাটেশ্বর ৩নং ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারী মোঃ মাকসুদ উল্লাহ অভিযোগ করে জানান, মাটি খেকো চক্রের চৌধুরী, বেলাল ও সালাহউদ্দিন এই কাজে সহায়তা করছে। মাটি বিক্রি করছে তাজুল ইসলাম আর মাটি কিনছে সালাহউদ্দিন চক্র। তারা পুলিশকে ম্যানেজ করে মাটি কাটছে। মাটি খেকোদের বিরুদ্ধে ৯৯৯ নাম্বারে ফোন দিলে ঘটনাস্থলে পুলিশ আসে। পরবর্তীতে দুই হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায় থানা পুলিশ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মসজিদ সংলগ্ন জমিতে একটি স্কেভেটে (ভেকু) মেশিন বন্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। আর জমি থেকে ৪-৫ ফুট গভীর করে মাটি কেটে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। জমির কিছু কিছু যায়গায় গভীর করে গর্ত করা হয়েছে।
মসজিদের মুসল্লী, মসজিদ কমিটির সদস্য ও স্থানীয় এলাকাবাসী জানায়, মসজিদের জন্য দানকৃত জমি থেকে মাটি কাটা নিয়ে প্রতিবাদ করলেও তা বন্ধ করেনি চক্রটি। এই ঘটনায় অভিযোগ করলেও থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ঘুষ নিয়ে চলে যায়। পরিবেশ বিধ্বংসী কাজ বন্ধ না করে ঘুষ গ্রহণের ঘটনায় ক্ষুব্ধ রয়েছে এলাকাবাসী। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে  দ্রুত এই মাটি খেকো চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।

এবিষয়ে সোনাইমুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসরিন আখতার জানান, এই বিষয়ে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘুষ নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে সোনাইমুড়ী থানার ওসি কবির হোসেন বলেন, ঘুষ নেওয়ার বিষয়টি তিনি জানেন না। সামাজিক  যোগাযোগ মাধ্যমে পুলিশের ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ নিয়ে প্রকাশিত ভিডিওটি তিনি দেখেছেন। তবে সেখানে স্পেসিফিক কারো নাম উল্লেখ করা হয়নি। এই বিষয়ে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

Facebook Comments Box


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
bdit.com.bd